কম্পিউটারে কাজের পর চোখ ও মন শান্ত করার অভ্যাস

জানালার বাইরে তখনো গাড়ির হর্ন আর ব্যস্ত শহরের কোলাহল, আর ঘরের ভেতরে ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে বসে কেটে গেছে টানা কয়েকটা ঘণ্টা। কাজ শেষ করে যখন আমরা কম্পিউটার বন্ধ করি, তখনো চোখের ভেতর একটা অস্বস্তি আর মাথার ভেতর কাজের চাপ ঘুরপাক খেতে থাকে। আমাদের মতো যারা ঘরে বসে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটান, তাদের জন্য এই চোখের ক্লান্তি আর মানসিক চাপ খুব চেনা একটি অনুভূতি। কাজের পর কীভাবে খুব সহজে নিজের চোখ ও মনকে একটু শান্তি দেওয়া যায়, তা নিয়ে আজ কিছু কথা বলব।

কাজের পর চোখের ক্লান্তি ও আমাদের দৈনন্দিন জীবন

সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর চোখের ওপর যে ধকল যায়, তা শুধু চোখের ক্ষতি করে না, বরং আমাদের মানসিক প্রশান্তিও কেড়ে নেয়। কাজের চাপ ও চোখের ক্লান্তি যখন একসাথে ভর করে, তখন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা মাথা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য আমাদের খুব বেশি সময় বা দামি কোনো উপকরণের প্রয়োজন নেই। ঘরের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা এই ক্লান্তি দূর করতে পারি।

কম্পিউটারে কাজের পর চোখ ও মন শান্ত করার অভ্যাস

চোখ ও মনকে শান্ত করার কিছু সহজ অভ্যাস

কাজের রুটিন শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই নিচের এই ছোট ছোট কাজগুলো আপনার শরীর ও মনকে সতেজ করে তুলতে পারে:

১. ঠান্ডা পানির মৃদু স্পর্শ

কাজ শেষ করেই প্রথমে বেসিনে গিয়ে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। আমাদের এখানে গরমে আর বাতাসে যে ধুলোবালি থাকে, তাতে পানির স্পর্শ চোখের জন্য এক দারুণ স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে খুব জোরে পানির ঝাপটা দেবেন না, আলতো করে চোখে পানি দিন। এটি চোখের ক্লান্তি দূর করতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

২. সবুজ দেখা ও ২০-২০-২০ নিয়ম

কাজের মাঝে বা কাজের পর ঘরের বারান্দায় বা জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ান। যদি কোনো গাছ থাকে, তবে কিছুক্ষণ সেই সবুজ পাতার দিকে তাকিয়ে থাকুন। চোখের ব্যায়াম হিসেবে '২০-২০-২০' নিয়মটি দারুণ কার্যকর। প্রতি ২০ মিনিট কাজ করার পর, ২০ ফুট দূরের কোনো জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা। কাজের শেষেও কিছুক্ষণ দূরের সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশিগুলো শিথিল হয়।

৩. গভীর শ্বাস ও হালকা স্ট্রেচিং

চেয়ার থেকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। হাত-পা ছড়িয়ে হালকা স্ট্রেচিং করে নিন। এরপর চোখ বন্ধ করে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। বুক ভরে বাতাস নিয়ে ধীরে ধীরে তা ছেড়ে দিন। এই সাধারণ অভ্যাসটি আপনার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াবে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। এটি এক ধরনের ডিজিটাল ডিটক্সের মতো কাজ করে।

নিজের জন্য সামান্য সময় রাখা কোনো বিলাসিতা নয়

সংসার, কাজ আর চারপাশের নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আমরা প্রায়ই নিজেদের কথা ভুলে যাই। নিজের জন্য দিনে মাত্র ১০টি মিনিট সময় বের করা কোনো বিলাসিতা বা অপরাধ নয়। সুস্থ শরীর আর শান্ত মন নিয়ে আমরা আমাদের পরিবার ও কাজকে আরও সুন্দরভাবে সামলাতে পারব। আজ থেকেই কাজ শেষে ল্যাপটপ বন্ধ করে এই ছোট অভ্যাসগুলো শুরু করে দেখুন। আপনি নিজেই নিজের মধ্যে এক অদ্ভুত সতেজতা অনুভব করবেন। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন।